আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন ধারার সিদ্ধান্ত
দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন ধারার সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ধারাবাহিক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক সংস্কারের বার্তার কারণে তিনি প্রশংসায় ভাসছেন।
প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রীদের জন্য ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়—এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রত্যেক মন্ত্রীর কাজ, দক্ষতা, বাস্তবায়ন ক্ষমতা এবং জনমুখী উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
১৮০ দিন আসলে একটি পারফরম্যান্স উইন্ডো—যার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে কে কতটা সফল, কে আংশিক সফল এবং কে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন, দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কিংবা কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, মন্ত্রীদের জন্য পারফরম্যান্স উইন্ডো
বিজ্ঞাপন
এই ১৮০ দিন পর সেই পারফরম্যান্সের আলোকে নির্ধারিত হবে কার অবস্থান শক্ত হবে, আর কার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়বে। ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে—অর্থাৎ প্রত্যেক মন্ত্রীর সামনে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা, যাতে তার দায়িত্ব পালন, শ্রদ্ধাশীল শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও জনগ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। এই সময়টা শুধু সময় নয়—এটা একটি কঠিন পারফরম্যান্স টেস্টের সময়ও বটে। সবাইকে প্রতিদিন, প্রতিটি কাজ, প্রতিটি উদ্যোগ এবং জবাবদিহিতায় নিজেকে প্রতিপন্ন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ইন্ডিভিজুয়াল পলিসি এবং কর্মসম্পাদনায় পারফরম্যান্স‑স্পিরিট দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন—বলছেন এটি শুধু একটি সময়সীমা নয় বরং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারের কার্যকর বাস্তবায়নের সুযোগ। সরকারের নতুন ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাতে তিনটি প্রধান অগ্রাধিক্য নির্ধারণ করা হয়েছে—দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও গ্যাস‑বিদ্যুৎ সহ জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করা।
সরকার পরিচালনায় উদাহরণ স্থাপন মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিচ্ছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে আসার পর অর্ধেক লাইট বন্ধ করে এসির মাত্রা কমিয়ে দপ্তরের বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুরু করেছেন। তিনি সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হেঁটে যাওয়া ও অনুষ্ঠান শেষে হেঁটে ফিরে আসার মাধ্যমে প্রথাগত ভিআইপি চলাচলের পরিবর্তন দেখিয়েছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস করার প্রথা পুনঃপ্রবর্তন, গাড়িবহর কমানো এবং দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ রাখার ভিআইপি প্রথা বাতিল, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জোরদার করতে প্রশাসনিক বৈঠক করা, সরকারি ব্যয় সংকোচন, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনায় নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছেন।